সিঙ্গাপুরে চাকরি খুঁজতে গেলে অনেকগুলো বিকল্পের মধ্যে থেকে বেছে নিতে হয়। কিন্তু অনেকেই হয়তো ‘ট্রেনিং এমপ্লয়মেন্ট পাস’ বা ‘টিইপি’ সম্পর্কে অবগত নন। বর্তমান বাজারে এই পাসটি বেশ উপকারী একটি মাধ্যম হতে পারে।
সম্প্রতি, সিঙ্গাপুর সরকার এই পাসের জন্য আসন সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। তাই, টিইপি পাওয়াটা আগের থেকে বেশ কঠিন হয়ে গেছে। এই আসন সীমাবদ্ধতা এবং এস-পাস ভিসা পাওয়ার জটিলতা বিবেচনা করলে, টিইপি ভিসা একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প।
এই পারমিটটি সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত বৈধ থাকে। তবে এটি আর বাড়ানো যায় না।
আবেদনকারীকে অবশ্যই সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত কোনো কোম্পানির স্পন্সরশিপ থাকতে হবে।
এর মাধ্যমেই সিঙ্গাপুর কতটা ব্যবসা এবং দক্ষতা-ভিত্তিক কর্মী বিনিময়ের উপর গুরুত্ব দেয় তা স্পষ্ট হয়। কোম্পানিগুলো ইন্টার্ন বা প্রশিক্ষণার্থীর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বেতন দেবে।
টিইপি পাসের আবেদন করা খুবই সহজ। সিঙ্গাপুর সরকারের ম্যানপাওয়ার মন্ত্রণালয়ের (MOM) ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এটি সম্পন্ন করা যায়।
পাসপোর্টের বিবরণ, ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, এবং ইন্টার্নশিপের সময় আপনি কী কী শিখতে চলেছেন তার একটি পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।
আবেদন ফি এবং পারমিট ফি মিলিয়ে ৩৩০ সিঙ্গাপুর ডলার। প্রয়োজন হলে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার জন্য আলাদা ফি দিতে হবে। ভবিষ্যতের কর্মজীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারে এমন অভিজ্ঞতার তুলনায় এগুলো খুবই সামান্য বিনিয়োগ।
উল্লেখ্য, এই প্রশিক্ষণের সময়কালে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর সম্ভব নয়।
প্রশিক্ষণ শেষ হওয়ার পরে কোম্পানিকে এই পারমিট বাতিল করতে হবে। এটা শুধুমাত্র নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণের জন্যই দেওয়া হয়, সেই শর্তটির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
টিইপি-তে কর্মরতরা ওভারটাইমসহ সর্বোচ্চ ১৮০০ থেকে ২২০০ সিঙ্গাপুর ডলার মাসিক বেতন পেতে পারেন। সিঙ্গাপুরে থাকাকালীন তাদের একটি অস্থায়ী পরিচয়পত্রও দেওয়া হবে।
তবে, টিইপি ভিসার মেয়াদ বাড়ানো যায় না। যদি আপনি সিঙ্গাপুরে কাজ চালিয়ে যেতে চান, তাহলে আপনাকে আপনার দেশে ফিরে গিয়ে অন্য একটি ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবার আবেদন করতে হতে পারে।
এছাড়াও, সিঙ্গাপুরে অল্প সময়ের জন্য থাকলেও দেশটির আইন-কানুন মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি।
